দলের নামের পাশের অডসকে সাধারণ লেবেল মনে হয়, কিন্তু একসঙ্গে তিনটি তথ্য থাকে: জিতলে কত টাকা পাবেন, ফলটি কতটা সম্ভব বলে বুকমেকার মনে করছে, আর বুকমেকার নিজে কতটা রেখে দেয়। ফোনের ক্যালকুলেটর হলেই তিনটিই পড়া যায়।
ডেসিমাল অডস: প্রতি টাকায় ফেরত
মোবাইল বেটিং সাইটে ডেসিমাল অডস ব্যাপকভাবে প্রচলিত। সংখ্যাটি বলে, ১ টাকা ধরলে স্টেকসহ কত ফেরত আসবে। স্টেককে অডস দিয়ে গুণ করলেই জিতলে মোট ফেরত পাওয়া যায়।
| স্টেক | অডস | জিতলে মোট ফেরত | লাভ |
|---|---|---|---|
| ৫০০ টাকা | ১.৪০ | ৭০০ টাকা | ২০০ টাকা |
| ৫০০ টাকা | ১.৯০ | ৯৫০ টাকা | ৪৫০ টাকা |
| ৫০০ টাকা | ৩.৫০ | ১,৭৫০ টাকা | ১,২৫০ টাকা |
লাভ মানে ফেরত থেকে স্টেক বাদ দেওয়া। বেট হারলে স্টেকটুকুই যায়, আর কিছু নয়। কিছু সাইটে ফ্র্যাকশনাল (যেমন ৫/৪) বা আমেরিকান (যেমন +১২৫) অডসও থাকতে পারে। দুটিই ডেসিমালে বদলানো যায়: ৫/৪ হয় ১ + ৫/৪ = ২.২৫, আর +১২৫ হয় ১ + ১২৫/১০০ = ২.২৫। অর্থাৎ দুটির দাম একই।
অডসকে শতাংশে বদলানো
দাম বোঝার সহজ উপায় হলো ১-কে ডেসিমাল অডস দিয়ে ভাগ করা। ফলটি হলো ইমপ্লাইড প্রোবাবিলিটি, অর্থাৎ ওই দাম যে সম্ভাবনা ধরে নিচ্ছে।
- ২.০০ অডসে ১ ÷ ২.০০ = ৫০%।
- ১.৮০ অডসে ১ ÷ ১.৮০ = ৫৫.৬%।
- ৪.০০ অডসে ১ ÷ ৪.০০ = ২৫%।
এর থেকে ব্রেক-ইভেনও বোঝা যায়। ১.৯০ অডসে সমান সমান থাকতেও ১ ÷ ১.৯০ = ৫২.৬% বেট জিততে হয়, ৫০% নয়। এই দামের প্রতিটি বেট শুরুতেই একটি বাধা নিয়ে আসে।
বুকমেকারের মার্জিন
দুই ফলের একটি ক্রিকেট ম্যাচ ধরুন। দল ক-এর অডস ১.৮০, দল খ-এর ২.১০। ইমপ্লাইড সম্ভাবনা যথাক্রমে ৫৫.৬% ও ৪৭.৬%। যোগ করলে হয় ১০৩.২%। ন্যায্য বাজারে যোগফল ঠিক ১০০% হওয়ার কথা, তাই বাড়তি ৩.২ পয়েন্টই বুকমেকারের মার্জিন, যাকে ওভাররাউন্ডও বলা হয়।
মার্জিন বাদ দিলে বুকমেকারের নিজস্ব হিসাব পাওয়া যায়। প্রতিটিকে মোট দিয়ে ভাগ করুন: ৫৫.৬ ÷ ১০৩.২ = দল ক-এর ৫৩.৯%, আর ৪৭.৬ ÷ ১০৩.২ = দল খ-এর ৪৬.১%। দল ক-এর «ন্যায্য» অডস হতো প্রায় ১.৮৬, ১.৮০ নয়। এই ১.৮৬ আর ১.৮০-র ফারাকটুকুই প্রতিটি বেটে আপনি দেন।
ফুটবলের তিন ফলের বাজারে ড্র যোগ হয়, হিসাব একই। ২.২০, ৩.৪০ ও ৩.৩০ অডসে সম্ভাবনা ৪৫.৫%, ২৯.৪% ও ৩০.৩%, মোট ১০৫.২%। মার্জিন প্রায় ৫.২ পয়েন্ট, তাই যত বেশি ফল থাকে সাধারণত খরচও তত বেশি।
প্রত্যাশিত মানের একটি উদাহরণ
ধরুন ১.৯০ অডসে ৫০০ টাকা ধরলেন এবং সততার সাথে মনে করেন সম্ভাবনা ঠিক ৫০%। জিতলে লাভ ৪৫০ টাকা, হারলে ক্ষতি ৫০০ টাকা। প্রতি বেটে গড় ফল ০.৫ × ৪৫০ − ০.৫ × ৫০০ = −২৫ টাকা। ১.৯০ দামে ধনাত্মক প্রত্যাশা তখনই আসে যখন আপনার আসল সম্ভাবনা ৫২.৬%-এর ওপরে। ভ্যালু বেটিংয়ের মূল কথা এটাই: আপনার সৎ অনুমানকে দামকে ছাড়িয়ে যেতে হবে, শুধু মেলালে হবে না।
বাস্তবে আসল সম্ভাবনা কেউ জানে না। তাই ভালো অভ্যাস হলো প্রতিটি দামকে বিনোদনের খরচ হিসেবে দেখা, স্টেক ছোট রাখা এবং ছোট অডসকে কখনো নিরাপদ না ভাবা। ১.২০ অডসের দলও প্রায় ছয় ম্যাচের একটিতে হারে, আর একটি হার পাঁচটি জয় মুছে দিতে পারে।
নিজে হিসাব করার তিন ধাপ
কোনো স্লিপে বেট ধরার আগে মাত্র এক মিনিটে এই তিনটি কাজ সেরে নিতে পারেন। প্রথমে ১-কে অডস দিয়ে ভাগ করে ইমপ্লাইড সম্ভাবনা বের করুন। তারপর ম্যাচের সব ফলের সম্ভাবনা যোগ করে দেখুন মার্জিন কত। শেষে নিজেকে সৎভাবে প্রশ্ন করুন: আমি কি সত্যিই মনে করি সম্ভাবনা এর চেয়ে বেশি, নাকি শুধু দলটিকে পছন্দ করি বলে বেট ধরছি? ভক্ত হিসেবে পছন্দ আর দামের বিচার আলাদা জিনিস, আর দ্বিতীয়টি না করলে দাম প্রতিবারই আপনার বিপক্ষে কাজ করে।
অঙ্ক থেকে পাঁচটি অভ্যাস
- বেটের আগে তুলনা করুন। ১.৮০ থেকে ১.৮৫ ছোট মনে হলেও ব্রেক-ইভেন ৫৫.৬% থেকে নেমে ৫৪.১% হয়।
- কম ফলের বাজার বেছে নিন। দুই ফলের বাজারে মার্জিন সাধারণত লম্বা আউটরাইট তালিকার চেয়ে কম।
- অডসকে নিশ্চয়তা ভাববেন না। অডস একটি দাম, ফেভারিটও নিয়মিত হারে।
- দাম কী কী কভার করে দেখুন। বৃষ্টি বা টাইয়ের পর ক্রিকেট বাজার আলাদাভাবে নিষ্পত্তি হতে পারে, তাই আগে মার্কেটের নিয়ম পড়ুন।
- স্লিপ খোলার আগেই স্টেকের সীমা লিখে রাখুন। দেখুন স্টেকিং ও বাজেটের গাইড।
আরও পড়ুন
- স্টেকিং ও বাজেট: কত টাকা ধরবেন, কখন থামবেন
- ক্রিকেট বেটিং মার্কেট ব্যাখ্যা: টি-টোয়েন্টি থেকে টেস্ট
- ফুটবল বেটিং বেসিক: মার্কেট ও নিষ্পত্তির নিয়ম